অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন

অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন (18+)

লেখা:- সিহাব হোসেন

“সুবর্ণা... তোর বয়ফ্রেন্ড কাল রাতে গলায় দ*ড়ি দিয়ে আত্মহ*ত্যা করেছে।” 🔴

ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা রুহির কাঁপা কাঁপা কণ্ঠস্বরটা শোনার পর সুবর্ণার মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। হাতের স্মার্টফোনটা যেন হঠাৎ করে কয়েক গুণ ভারী হয়ে গেল। বুকটা ধক করে উঠল তার। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে কোনোমতে তোতলাতে তোতলাতে বলল, 🔴
— “কী... কী বলছিস এসব আজেবাজে কথা? পা*গল হয়েছিস তুই?”

— “হ্যাঁ, ঠিকই বলছি। আমি মিথ্যা কেন বলব? রাজনের মা তো কান্না করতে করতে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। ওনার অবস্থা খুব খারাপ। সত্যি বলতে কী... 🔴 আমার মনে হয় ওকে এভাবে কষ্ট দেওয়া তোর উচিত হয়নি। ছেলেটা তোকে পাগলের মতো ভালোবাসত রে।”

সুবর্ণা আর কোনো কথা বলতে পারল না। লাইনটা কেটে দিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল সে। তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে সে। 🔴 বুকের ভেতরটায় এক অদ্ভুত, অস্বস্তিকর অপরাধবোধ দলা পাকিয়ে উঠছে। রাজনের সাথে তার সম্পর্কটা একদিন দুইদিনের নয়, পাক্কা পাঁচ বছরের। ভার্সিটির প্রথম বর্ষ থেকে শুরু। ছেলে হিসেবে রাজন ছিল ভীষণ শান্ত, নম্র এবং যত্নশীল। সুবর্ণাকে সে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসত। 🔴 বাবা-মা হারা সংসারে রাজন তার অসুস্থ মাকে নিয়ে থাকত। এই তো কিছুদিন হলো একটা ছোটখাটো কোম্পানিতে জবও জুটিয়েছিল। রাজনের মা হার্টের রোগী, তাই জীবনের সবটুকু আনন্দ সে সুবর্ণার মাঝেই খুঁজে নিত।

রাজনের সেই আকুতিভরা কথাগুলো সুবর্ণার কানে বাজতে লাগল, 🔴
— "সুবর্ণা, তুমি যদি কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাও, আমি হয়তো ম*রেই যাব। পৃথিবীর সব কষ্ট আমি সহ্য করতে পারব, কিন্তু তোমার বিচ্ছেদ না।"

সুবর্ণা তখন তার হাতটা নিজের বুকের কাছে টেনে নিয়ে কথা দিয়েছিল, সে কখনো তাকে ছেড়ে যাবে না। কিন্তু প্রতিশ্রুতি কি আর সবসময় রাখা যায়? বাস্তবতার কাছে আবেগ যে বড্ড মূল্যহীন! 🔴

সুবর্ণার জীবনে মাস ছয়েক আগে এন্ট্রি নেয় ইমরান। মস্ত বড় এক শিল্পপতির একমাত্র ছেলে সে। টাকার কোনো অভাব নেই, গাড়ির অভাব নেই। শুধু অর্থবিত্তই নয়, ইমরান শারীরিকভাবেও ভীষণ আকর্ষণীয়। 🔴 চওড়া কাঁধ, সুঠাম দেহ, আর তার চোখে এক ধরনের নেশাধরানো দৃষ্টি আছে যা যেকোনো মেয়েকে দুর্বল করে দিতে পারে। ইমরানের সাথে পরিচয়ের পর সুবর্ণার মনে হতে লাগল, রাজনের সাথে তার জীবনটা বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে। রাজনের সাথে ঘুরে আর সস্তা রেস্টুরেন্টে খেয়ে জীবন কাটানো সম্ভব নয়। 🔴 ইমরান তাকে যে বিলাসবহুল জীবনের স্বাদ দিতে পারবে, রাজন তার সিকিভাগও পারবে না। ইমরানের পেশিবহুল হাতের ছোঁয়া, তার দামি পারফিউমের গন্ধ, আর তার বেপরোয়া স্বভাব সুবর্ণার শরীরের আনাচে-কানাচে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাত। 🔴

সেই শারীরিক আর মানসিক আকর্ষণের কাছে রাজনের পাঁচ বছরের নিখাদ প্রেম হেরে গেল। মাত্র দুইদিন আগে সুবর্ণা খুব বাজে ভাবে রাজনের সাথে ব্রেকআপ করে। 🔴 তাকে তার দারিদ্র্য আর অক্ষমতা নিয়ে এমন কিছু কথা শোনায়, যা কোনো পুরুষের পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। রাজন হয়তো সত্যিই সেই অপমান আর শূন্যতা সহ্য করতে পারেনি। 🔴

সুবর্ণা আর বসে থাকতে পারল না। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে একটা ওড়না গায়ে জড়িয়ে সোজা ছুটল রাজনের বাড়ির দিকে। 🔴

রাজনের বাড়ির উঠানে পা রাখতেই এক ভারী, গুমোট পরিবেশ তাকে চেপে ধরল। আগরবাতির গন্ধ আর মানুষের ফিসফিসানি। মাঝখানে সাদা কাপড়ে মোড়ানো রাজনের নিথর দেহটা রাখা। 🔴 সুবর্ণা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ ফেটে পানি বেরিয়ে আসছে। এই তো কয়েকদিন আগেও এই মানুষটা তার কপালে চুমু খেয়ে বলেছিল, "তোমাকে ছাড়া আমি অচল।" আজ সে সত্যিই চিরতরে অচল হয়ে গেছে। 🔴

হঠাৎ রাজনের মায়ের গগনবিদারী বিলাপ সুবর্ণার চিন্তার সুতো ছিঁড়ে দিল। বৃদ্ধা মহিলা সুবর্ণাকে দেখতে পেয়েই যেন ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তার চোখ দুটো রক্তজবার মতো লাল। ভিড় ঠেলে তিনি সুবর্ণার দিকে এগিয়ে এলেন। 🔴 আঙুল উঁচিয়ে ভাঙা গলায় চিৎকার করে উঠলেন,
— “তোর কারণে... হ্যাঁ, শুধু তোর কারণে আমার ছেলেটা আজ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল! তুই যে রূপের অহংকারে, যে শরীরের গরমে আর সুখের আশায় আমার ছেলেকে কাঁদিয়ে চলে গেলি, সেই সুখ তোর কপালে কোনোদিন জুটবে না! 🔴 আমার ছেলের দীর্ঘশ্বাস তোকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। তুই ধ্বংস হয়ে যাবি... তুই শেষ হয়ে যাবি!”

প্রতিটি শব্দ যেন সুবর্ণার গায়ে চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল। উপস্থিত সবার দৃষ্টি তার দিকে। সুবর্ণা আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে পারল না। দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে এলো। 🔴

বাসায় ফিরে নিজের ঘরের দরজা আটকে ফ্লোরে বসে অঝোরে কাঁدل সে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার মনে হলো কেঁদে কী হবে? যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। মরা মানুষ তো আর ফিরে আসবে না। নিজেকে প্রবোধ দিল সে। 🔴 ঠিক এমন সময় তার ফোনের স্ক্রিনটা জ্বলে উঠল। ইমরান কলিং।

সুবর্ণা দ্রুত চোখের পানি মুছে গলাটা পরিষ্কার করে কলটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে ইমরানের সেই চিরচেনা, ভরাট, মোহময় কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, 🔴
— “কী ব্যাপার ? কোথায় তুমি? তোমাকে না বললাম আজ মার্কেটে নিয়ে যাব, তারপর লং ড্রাইভে যাব? তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও, আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে আসছি।”

ইমরানের গলা শোনার সাথে সাথেই সুবর্ণার ভেতরের সব শোক যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। সে নিজেকে শক্ত করে বোঝাল যা হয়েছে, ভালোর জন্যই হয়েছে। 🔴 রাজনের মৃ*ত্যুতে একটা পথের কাঁটা চিরতরে সরে গেছে। এখন আর কোনো পিছুটান নেই। সে স্বাভাবিক গলায়, কিছুটা আদুরে স্বরে বলল,
— “ঠিক আছে, তুমি আসো। আমি রেডি হচ্ছি।” 🔴

সুবর্ণা গোসল সেরে নিজেকে খুব যত্ন করে সাজাল। একটা গাঢ় লাল রঙের স্লিভলেস কামিজ পরল, যা তার শরীরের বাঁকগুলোকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলছে। ঠোঁটে দিল ডার্ক রেড লিপস্টিক। 🔴 আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে তার নিজেরই এক অদ্ভুত অহংকার হলো। রাজনের মায়ের অভিশাপের কথা সে মন থেকে একেবারে মুছে ফেলল।

ইমরানের গাড়িতে ওঠার পর ইমরান তাকে খুব কাছে টেনে নিল। সুবর্ণার উন্মুক্ত কাঁধে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল, 🔴
— “ইউ লুক গর্জিয়াস।”
ইমরানের উষ্ণ নিশ্বাসের ছোঁয়ায় সুবর্ণার শরীরের প্রতিটি লোমকূপ যেন জেগে উঠল। সে ইমরানের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। 🔴

মার্কেটে গিয়ে ইমরান তাকে দামি দামি কিছু উপহার কিনে দিল। এরপর তারা শহরের নামীদামী এক রেস্টুরেন্টের প্রাইভেট বুথে গিয়ে বসল। সেখানে আড্ডা, খাবার আর একে অপরের শরীরের উষ্ণতায় মগ্ন হয়ে রইল দুজন. টেবিলের নিচ দিয়ে ইমরানের হাত সুবর্ণার উরু ছুঁয়ে যাচ্ছিল। 🔴 সুবর্ণা কোনো বাধা দিল না, বরং সেই উত্তেজনায় নিজেকে সঁপে দিল। তার মনে হতে লাগল, এই তো জীবন! এই কামনার আগুনমাখা জীবনের জন্যই তো সে রাজনকে ছেড়েছে। রাজনের মৃ*ত্যু নিয়ে তার মনে আর বিন্দু পরিমাণ আক্ষেপ রইল না। 🔴

রাত অনেক গভীর।

সুবর্ণা তার এসি রুমে একটা পাতলা জামা পরে ঘুমাচ্ছে। আজকের দিনের ক্লান্তি আর ইমরানের সাথে কাটানো উদ্দাম মুহূর্তগুলোর রেশ তাকে গভীর ঘুমে তলিয়ে দিয়েছে। 🔴

কিন্তু ঘুমের মধ্যেই এক অদ্ভুত, দমবন্ধ করা জগতে প্রবেশ করল সে। স্বপ্নে দেখল চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু একটা মোমবাতি জ্বলছে কোথাও। সেই আলোয় সে দেখল, কালো কাপড়ে মোড়ানো এক বীভৎস চেহারার তান্ত্রিক সামনে বসে আছে। 🔴 তান্ত্রিকের হাতে মাটি আর কাপড় দিয়ে বানানো একটা ছোট পুতুল। তান্ত্রিক বিড়বিড় করে কোনো এক মন্ত্র পড়ছে. মন্ত্রের প্রতিটি শব্দ যেন সুবর্ণার কানের কাছে এসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

হঠাৎ তান্ত্রিক একটা জং ধরা, লম্বাটে মোটা সুচ বের করল। সুবর্ণা স্বপ্নেই বুঝতে পারল, ওই পুতুলটা আসলে সে নিজেই। 🔴 তান্ত্রিক মন্ত্র পড়া শেষ করে তার লাল টকটকে চোখ তুলে সুবর্ণার দিকে তাকাল. তার ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক হাসি। এরপর সে সজোরে সেই সুচটা পুতুলের ডান পায়ের উরুর ঠিক মাঝখানে গেঁথে দিল। 🔴

“আহহহহ!”

তীব্র আর ভয়ংকর এক ব্যথায় সুবর্ণা ঘুমের মধ্যেই কুঁকড়ে গেল। পুতুলের গায়ে সুচ ফোটানোর সাথে সাথে সুবর্ণা তার নিজের উরুর মধ্যে হুবহু সেই সুচ ফোটানোর যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিটা টের পেল। মনে হলো কেউ সত্যিই তার মাংসের ভেতর একটা গরম লোহা ঢুকিয়ে দিয়েছে। 🔴

তৎক্ষণাৎ সুবর্ণার ঘুম ভেঙে গেল। সে আতঙ্কে একটা চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে বিছানায় উঠে বসল। বুকটা প্রবল ভাবে ওঠানামা করছে। সারা শরীর থেকে দরদর করে ঘাম ঝরছে। এসির কনকনে ঠান্ডাতেও তার পাতলা জামা ঘামে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। 🔴

সে হাঁপাতে হাঁপাতে সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে সবটুকু পানি খেয়ে ফেলল। এরপর ভয়ে ভয়ে তার প্লাজু সরিয়ে নিজের ডান উরুর দিকে তাকাল। হাত বুলিয়ে দেখল. না, সেখানে কোনো ক্ষ*ত নেই, কোনো র*ক্ত নেই. ত্বক একদম স্বাভাবিক। 🔴

সুবর্ণা একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।
— “জাস্ট একটা খারাপ স্বপ্ন ছিল...”
নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে সে ঘাম মুছল. রাজনের মায়ের সেই অভিশাপটা হয়তো অবচেতন মনে কাজ করছে, তাই এমন স্বপ্ন।

সে আবার শুয়ে পড়ার জন্য বালিশে মাথা রাখল। কিন্তু হঠাৎ তার শরীরটা জমে গেল. ঘরের তাপমাত্রা যেন এক ধাক্কায় হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে। সুবর্ণার দৃষ্টি আটকে গেল তার বিছানার ঠিক সামনের দেয়ালটায়। 🔴

সেখানে কোনো আসবাবপত্র নেই, তবু দেয়ালে এক বিশাল, দীর্ঘাকৃতির কালো ছায়া ফুটে উঠেছে। ছায়াটার কোনো স্পষ্ট অবয়ব নেই, কিন্তু তার উপস্থিতিতে পুরো ঘরটা যেন কাঁপছে. সুবর্ণা স্পষ্ট অনুভব করতে পারল, সেই ছায়াটার কোনো মুখ বা চোখ না থাকলেও, সে সুবর্ণার দিকেই একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে. আর সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে এক নিষ্ঠুর, নীরব হাসি সুবর্ণার দিকে ধেয়ে আসছে। 🔴

ছায়াটা ধীরে ধীরে দেয়াল ছেড়ে বিছানার দিকে এগোতে শুরু করল। সুবর্ণা চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না. সে শুধু তার শরীরের উপর এক হিমশীতল স্পর্শ অনুভব করতে লাগল। 🔴