লাল বৃত্ত খোঁজার চ্যালেঞ্জ
🔴 কাজের ধরন: লাল বৃত্ত খোঁজার কাজ

আপনার করণীয়:

  • ১. নিচের সম্পূর্ণ গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
  • ২. গল্পের ভেতরে থাকা মোট ২২টি লাল বৃত্ত (🔴) খুঁজে বের করুন।
  • ৩. কাজ শেষে সঠিক তথ্য জমা দিয়ে পেমেন্ট নিশ্চিত করুন।
“সুবর্ণা... তোর বয়ফ্রেন্ড কাল রাতে গলায় দ*ড়ি দিয়ে আত্মহ*ত্যা করেছে।” 🔴

ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা রুহির কাঁপা কাঁপা কণ্ঠস্বরটা শোনার পর সুবর্ণার মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। হাতের স্মার্টফোনটা যেন হঠাৎ করে কয়েক গুণ ভারী হয়ে গেল। বুকটা ধক করে উঠল তার। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। 🔴 সে কোনোমতে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
— “কী... কী বলছিস এসব আজেবাজে কথা? পা*গল হয়েছিস তুই?” 🔴

— “হ্যাঁ, ঠিকই বলছি। আমি মিথ্যা কেন বলব? রাজনের মা তো কান্না করতে করতে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। ওনার অবস্থা খুব খারাপ। সত্যি বলতে কী... আমার মনে হয় ওকে এভাবে কষ্ট দেওয়া তোর উচিত হয়নি। ছেলেটা তোকে পাগলের মতো ভালোবাসত রে।” 🔴

সুবর্ণা আর কোনো কথা বলতে পারল না। লাইনটা কেটে দিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল সে। তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে সে। 🔴 বুকের ভেতরটায় এক অদ্ভুত, অস্বস্তিকর অপরাধবোধ দলা পাকিয়ে উঠছে। রাজনের সাথে তার সম্পর্কটা একদিন দুইদিনের নয়, পাক্কা পাঁচ বছরের। ভার্সিটির প্রথম বর্ষ থেকে শুরু। 🔴 ছেলে হিসেবে রাজন ছিল ভীষণ শান্ত, নম্র এবং যত্নশীল। সুবর্ণাকে সে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসত। 🔴 বাবা-মা হারা সংসারে রাজন তার অসুস্থ মাকে নিয়ে থাকত। রাজনের সেই আকুতিভরা কথাগুলো সুবর্ণার কানে বাজতে লাগল,
— "সুবর্ণা, তুমি যদি কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাও, আমি হয়তো ম*রেই যাব। পৃথিবীর সব কষ্ট আমি সহ্য করতে পারব, কিন্তু তোমার বিচ্ছেদ না।" 🔴

সুবর্ণা তখন তার হাতটা নিজের বুকের কাছে টেনে নিয়ে কথা দিয়েছিল, সে কখনো তাকে ছেড়ে যাবে না। কিন্তু প্রতিশ্রুতি কি আর সবসময় রাখা যায়? বাস্তবতার কাছে আবেগ যে বড্ড মূল্যহীন! 🔴

সুবর্ণার জীবনে মাস ছয়েক আগে এন্ট্রি নেয় ইমরান। মস্ত বড় এক শিল্পপতির একমাত্র ছেলে সে। 🔴 টাকার কোনো অভাব নেই, গাড়ির অভাব নেই। ইমরানের সাথে পরিচয়ের পর সুবর্ণার মনে হতে লাগল, রাজনের সাথে তার জীবনটা বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে। 🔴 ইমরানের পেশিবহুল হাতের ছোঁয়া, তার দামি পারফিউমের গন্ধ, আর তার বেপরোয়া স্বভাব সুবর্ণার শরীরের আনাচে-কানাচে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাত। 🔴 সেই শারীরিক আর মানসিক আকর্ষণের কাছে রাজনের পাঁচ বছরের নিখাদ প্রেম হেরে গেল। 🔴

সুবর্ণা আর বসে থাকতে পারল না। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে একটা ওড়না গায়ে জড়িয়ে সোজা ছুটল রাজনের বাড়ির দিকে। 🔴 রাজনের বাড়ির উঠানে পা রাখতেই এক ভারী, গুমোট পরিবেশ তাকে চেপে ধরল। আগরবাতির গন্ধ আর মানুষের ফিসফিসানি। 🔴 মাঝখানে সাদা কাপড়ে মোড়ানো রাজনের নিথর দেহটা রাখা। সুবর্ণা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। 🔴

হঠাৎ রাজনের মায়ের গগনবিদারী বিলাপ সুবর্ণার চিন্তার সুতো ছিঁড়ে দিল। বৃদ্ধা মহিলা সুবর্ণাকে দেখতে পেয়েই যেন ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। 🔴 আঙুল উঁচিয়ে ভাঙা গলায় চিৎকার করে উঠলেন,
— “তোর কারণে... হ্যাঁ, শুধু তোর কারণে আমার ছেলেটা আজ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল! তুই যে সুখের আশায় আমার ছেলেকে কাঁদিয়ে চলে গেলি, সেই সুখ তোর কপালে কোনোদিন জুটবে না!” 🔴

সুবর্ণা দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে এলো। বাসায় ফিরে নিজের ঘরের দরজা আটকে ফ্লোরে বসে অঝোরে কাঁদল সে। 🔴 ঠিক এমন সময় তার ফোনের স্ক্রিনটা জ্বলে উঠল। ইমরান কলিং। 🔴 সুবর্ণা নিজেকে শক্ত করে বোঝাল যা হয়েছে, ভালোর জন্যই হয়েছে। রাজনের মৃ*ত্যুতে একটা পথের কাঁটা চিরতরে সরে গেছে। 🔴 সে স্বাভাবিক গলায় বলল, “ঠিক আছে, তুমি আসো। আমি রেডি হচ্ছি।”

মার্কেটে গিয়ে ইমরান তাকে দামি দামি কিছু উপহার কিনে দিল। রাত অনেক গভীর। সুবর্ণা তার এসি রুমে একটা পাতলা জামা পরে ঘুমাচ্ছে। 🔴 স্বপ্নে দেখল চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। তান্ত্রিক একটা জং ধরা, লম্বাটে মোটা সুচ বের করল। 🔴 তান্ত্রিক মন্ত্র পড়া শেষ করে তার লাল টকটকে চোখ তুলে সুবর্ণার দিকে তাকাল। এরপর সে সজোরে সেই সুচটা পুতুলের ডান পায়ের উরুর ঠিক মাঝখানে গেঁথে দিল। 🔴 তীব্র আর ভয়ংকর এক ব্যথায় সুবর্ণা ঘুমের মধ্যেই কুঁকড়ে গেল। 🔴
Click Now
✅ কাজ শেষে ৮ ঘণ্টার মধ্যে পেমেন্ট নিশ্চিত করা হবে।
Mailsuite Email tracked with Mailsuite · Opt out 04/26/26, 07:19:39 PM

Post a Comment

0 Comments